আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজে চলার পথে সবার সামনে নিজের ব্যক্তিত্ব ধরে রাখার চেষ্টা করি, আবার কেউ নিজের ব্যক্তিত্ব বিলীন করে দেই। আমরা অনেকেই জানিনা মানুষের সাথে কিভাবে চললে নিজের ব্যক্তিত্ব ধরে রাখা যাবে বা ব্যক্তিত্ব তৈরি করা যাবে সে বিষয়ে আজকে আমি ইব্রাহিম আপনাদের সাথে আলোচনা করব। আজকের এই পোস্টটা যদি আপনাদের ভালো লাগে বা উপকারে আসে তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট বক্সে মিষ্টি একটা কমেন্ট করে যাবেন।
যে নিয়ম গুলো মেনে চললে, আপনি আগামী এক মাসের মধ্যে নিজের সুন্দর একটি ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে পারবেন।
১। মানুষের সাথে কথা কম বলুন, আপনি যদি সচরাচর মানুষের সাথে অতিরিক্ত কথা বলেন মানুষ তখন আপনার কথার গুরুত্ব দিবে না। কিন্তু আপনি যখন কথা কম বলবেন তখন মানুষ আপনার একটা কথা শোনার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকবে। আপনার দশটা কথা বলার চেয়ে একটা কথার গুরুত্ব তখন মানুষ বেশি দিবে। সেজন্য অবশ্যই আপনাকে প্রথম ধাপ হিসেবে মানুষের সাথে কম কথা বলতে হবে। এজন্য আবার আমি বলতেছি না আপনারা একদমই কথা বলবেন না, কথা অবশ্যই বলবেন সেটা প্রয়োজন হলে। প্রয়োজন ছাড়া অপ্রয়োজনীয় কোন কথা বলা যাবে না।
২। যেখানে সেখানে যার তার সাথে তর্কে জড়াবেন না। কারণ যারা ব্যক্তিত্ব নিয়ে চলে তারা কখনোই কারো সাথে তর্কে জড়ায় না। তারা তাদের বুদ্ধি দিয়ে সেখান থেকে সম্মানের সহিতে ফিরে আসে। আপনিও সর্বদা চেষ্টা করবেন কারো সাথে তর্কে না জড়ানো জন্য। এটা প্রথমদিকে আপনার হয়তো বা একটু কষ্ট হবে কিন্তু পরে আস্তে আস্তে এটা আপনি আপনার নিজের সাথে মানিয়ে নিতে পারবেন।
৩। কারো কথার ভেতরে না বুঝেই আপনি বাম হাত ঢুকাতে যাবেন না। মনে করেন দুজন ব্যক্তি কোন গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতেছে, আপনি ঘটনার কিছু না জেনে বুঝেই তাদের দুজনের কথার মধ্যে বাম হাত ঢুকিয়ে দিলেন। তখন তারা আপনাকে একজন ফালতু লোক হিসেবে ছাড়া আর কিছুই মনে করবে না। সেজন্য বলব নিজের ওয়েট ধরে রাখার জন্য অবশ্যই অন্যের কথার ভেতর বাম হাত ঢুকাবেন না। তবে আপনাকে যদি কথা বলতেই তাহলে প্রথমে আপনি ওই ব্যক্তিদের সাথে বসবেন, তারপরে সম্পূর্ণ ঘটনা শুনবেন এবং বুঝবেন। এরপরে যে সিদ্ধান্ত হয় সেটা আপনি ভেবেচিন্তে তারপরে বলবেন।
৪। বেশি বেশি করে বই পড়ার অভ্যাস করুন। মনে রাখবেন যে বই পড়ে তার কোন শত্রু নেই, কাজেই বেশি বেশি করে বই পড়ার অভ্যাস করুন। বই আপনাকে আরো জ্ঞান সমৃদ্ধ করবে। আপনি যত বেশি বই পড়বেন তত বেশি জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। একজন বন্ধুর সাথে আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট করার চেয়ে বই পড়া অনেক ভালো। প্রতিটা ব্যক্তিত্ববান ব্যক্তির জীবনী ঘাটলে আপনি জানতে পারবেন তারা সকলেই অবশ্যই বই পড়তে অভ্যস্ত ছিলেন। বই পড়লে আপনি প্রতিদিন নতুন নতুন কিছু জানতে পারবেন শিখতে পারবেন।
৫। আপনার ফ্রেন্ড সার্কেল বা অন্য কোন মানুষের সাথে দাম্ভিকতা পূর্ণ বা অহংকারমূলক কথাবার্তা বলা বন্ধ করতে হবে। সর্বদা নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিপাটি রাখতে হবে। মানুষের সাথে কোনভাবেই অহংকারমূলক কথাবার্তা বলা যাবে না। অবশ্যই মানুষের সাথে মৃদু হেসে কথা বলার চেষ্টা করবেন যাতে মানুষ বুঝতে পারে আপনি একজন সৎ এবং ভালো মনের মানুষ।
৬। ভুলেও কাউকে কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করা যাবে না। মনে করেন আপনি এমন একজন লোককে তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তাকে ছোট করলেন যেটা সে কোনভাবে মেনে নিতে পারবে না, সে মানুষের কাছে তখন আপনার সম্পর্কে খারাপ কথা বলে বেড়াবে। কারণ আপনি তার ব্যক্তিগত বিষয়ে নিয়ে কথা বলে তার মনে অনেক বড় কষ্ট দিয়ে ফেলেছেন। সেজন্য বলব অবশ্যই কারো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলবেন না বা আঘাত করবেন না।
৭। কোন মানুষকে হেয় বা প্রতিপন্ন করে কথা বলবেন না। এতে মানুষের মনে আপনার প্রতি খারাপ ধারণা সৃষ্টি হবে। এজন্য অবশ্যই মানুষ কে কখনো ছোট করে কথা বলবেন না। মানুষের সাথে সম্মানের সইতে কথা বলার চেষ্টা করবেন, মনে রাখবেন মানুষ সম্মানের বদলে সম্মান দেয়। আপনি যদি কাউকে সম্মান দেন তাহলে আপনাকেও সে সম্মান করবে।
৮। কারো প্রিয়জন বা প্রিয় জিনিস নিয়ে কখনো কটুক্তি করা যাবে না। একজন মানুষের মধ্যে এই বিষয়গুলো অবশ্যই সেনসিটিভ। কারণ মানুষ যেটা পছন্দ করে সে সম্পর্কে কারো কাছ থেকে খারাপ কিছু শুনলে সেটা সে কখনোই মেনে নিতে পারে না। আর যার মুখ থেকে এই কথাগুলো শুনবে সে যতই ভালো হোক না কেন, তাকে সে কোনভাবেই ভালো চোখে দেখবে না। সেজন্য বলব মানুষকে অবশ্যই সম্মানের সহিত তাদের প্রিয় জিনিসকে বাপি ওজনকে নিয়ে সুন্দর কথা বলবে। সুন্দর কথা বলতে না পারলেও কখনো কটুক্তি করে কথা বলা যাবে না।
৯। কখনো কখনো নিজের বন্ধুকে না বলতে শিখুন। তবে হ্যাঁ শত্রুকে অবশ্যই হ্যাঁ বলুন! বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপনি শত্রুকে হ্যাঁ বললে আপনার জন্য সবথেকে বেশি ভালো হবে। অনেক কাছের বন্ধু আছে যাদেরকে আপনি হ্যাঁ বললে আপনার ক্ষতি ছাড়া তারা আর কিছুই করবে না। আবার আপনি যখন আপনার শত্রুকে হ্যাঁ বলবেন তখন আপনার শত্রু ভাববে আপনি হয়তো তাদের বন্ধু হয়ে গেছেন, সেজন্য আপনি তাদেরকে হ্যা বলতেছেন।
১০। কারো সাথে ঝগড়া বিরোধ না রেখে, তার সাথে যদি মনের মিল নাও হয় তার পরেও উপর থেকে বন্ধুত্বের অভিনয় করে যান। যাতে সে বুঝতে পারে আপনি তার শত্রু নয় বন্ধু। এতে করে আপনাকে আরো মানুষ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে। এবং আপনি আরো অনেক মানুষের সামনে নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করতে পারবেন। একটা কথা আছে বন্ধুকে কাছে রাখুন আর শত্রুকে পারলে আরো বেশি কাছে রাখুন। গুরুত্বের খাতিরে হোক বা তর্কের খাতিরে হোক নয়তো বা টেকনিক্যাল কারণেই হোক অথবা যেকোনো কারণেই হোক বা না কেনো শত্রুকে অবশ্যই বেশি বেশি ভালবাসতে হয়। শত্রুর সাথে বেশি বেশি করে মিশুন, তার সাথে যোগাযোগ করুন। মাঝে মাঝে শত্রুর সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল আচরণ করুন।
আজকের এই পোস্টটা যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই নিচে একটি মিষ্টি কমেন্ট করে যান। আমরা শুধুমাত্র আপনাদের উদ্দেশ্যেই এত কষ্ট করে ব্লগ পোস্টগুলো রেডি করি। আমার কিন্তু কোন টিম মেম্বার নেই আমি একাই এই পোস্টগুলো তৈরি করি সেজন্য বলবো অবশ্যই নিজের ভাই মনে করে নিচে সুন্দর একটি কমেন্ট করে যান। এতক্ষন ধরে আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!